add
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

ধর্মনিরপেক্ষতার দিশারি বঙ্গবন্ধু

রিপোটারের নাম / ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

১৭ মার্চ ২০২০-এ বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু তাঁর জন্মের শতবর্ষ পূরণ করছেন। বাংলাদেশের মানুষসহ বিশ্ববাসী তাঁর জন্মশতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছিল। ১০ জানুয়ারি যেদিন তিনি পাকিস্তানের বন্দিশালা থেকে মুক্ত স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন, সেদিন এই ক্ষণগণনা শুরু হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের আক্রমণ সেই আনন্দ উৎসবে ছায়াপাত করতে শুরু করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ জাতীয় কমিটি’ বছরব্যাপী এই উৎসব আনন্দের কর্মসূচির পুনর্বিন্যাস করে জনসমাবেশের বিষয়গুলো কমিয়ে এনেছে।

করোনাভাইরাস বাদেও আরেকটি বিষয় এই জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছিল। তা হলো ওই জন্মশতবর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে আগমন। ভারতের এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তো বটেই, সরকারের মধ্যেও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। যার প্রকাশও ঘটেছে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত-বাংলাদেশ বর্তমান সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ওই জন্মশতবর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, সেটা অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। বছরব্যাপী মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণের জন্য ভারতের কংগ্রেস দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধী, সিপিআই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা যায়। এ ছাড়া আরও বহু রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের এই জন্মশতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

 কিন্তু ভারতের নাগরিক সংশোধন আইনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশের মানুষের মনে বেশ
বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের ইসলামি দলগুলো একে কেন্দ্র করে মুজিব বর্ষ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে বিরোধিতা করে তাকে প্রতিহত করার কর্মসূচিও ঘোষণা করে। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা নামে বামদের জোট একইভাবে নরেন্দ্র মোদির আগমনকে প্রতিহত করার দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে। বামদের এই জোটে যেমন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রয়েছে, তেমনি আধিক্যে রয়েছে ভারতবিরোধী—যারা ভারতকে সাম্রাজ্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী দেশ বলে মনে করে, সেই সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাম দলও। ইসলামি দলসমূহ ও বাম জোটের এসব কর্মসূচি জনজমায়েতের দিক থেকে মুজিব বর্ষের কর্মসূচিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে সক্ষম হতো না নিঃসন্দেহে। কিন্তু বাংলাদেশের জনমনে ভারতের বিভিন্ন আচরণের কারণে ভারতবিরোধী যে আন্তস্রোত রয়েছে, সেটাই প্রবল হতো বলে মনে হয়। আর এই ভারতবিরোধিতার মূল দিকটি যতখানি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট, তার চেয়ে সাম্প্রদায়িকতানির্ভর। মুজিব বর্ষের উৎসব-আনন্দেই এটা কতখানি বিঘ্ন সৃষ্টি করত, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এর রাজনৈতিক তাৎপর্য। কারণ, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির পত্তন হয়েছিল জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বকে নাকচ করে একটি ভাষাভিত্তিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে। ভারতের নাগরিক সংশোধন আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হলেও উপমহাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে ১৯৭১ সালে বাঙালির রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে দ্বিজাতিতত্ত্বের অবসান ঘটেছিল, সিএএ তাকেই পুনরুজ্জীবিত করেছে। ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে প্রণীত আইন উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক শক্তিকেই উৎসাহিত করেছে। দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। বাংলাদেশের ধর্মবাদী দলগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাদের ওয়াজ মাহফিলে, জুমার বয়ানে, মিছিলের স্লোগানে ভারতবিরোধী, মোদি-বিরোধিতার নামে যে সাম্প্রদায়িক প্রচার চলেছে, এসবই সে কথাকেও প্রমাণ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪